Homeভ্রমণমোঘল হাম্মাম—বাংলাদেশের সাত প্রাচীন স্নানঘর

মোঘল হাম্মাম—বাংলাদেশের সাত প্রাচীন স্নানঘর

এলিজা বিনতে এলাহী

একজন ভ্রমণকারী হিসেবে আমার কাছে বাংলাদেশ ভ্রমণ সম্পর্কে যে দুটি প্রশ্ন সবাই জানতে আগ্রহী থাকে তা হলোÑবাংলাদেশে আমার প্রিয় ভ্রমণস্থল আর অন্যটি হলো আমার প্রিয় স্থাপত্য। দুটি প্রশ্নেরই উত্তর দেয়া আমার জন্য বেশ জটিল। বাংলাদেশে আমার পছন্দের অনেক ভ্রমণস্থান যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে পছন্দের স্থাপত্য।
মোটা দাগে যদি বলি পুরো উত্তরবাংলার ১৬টি জেলাকে আমার হেরিটেজ জোন বলে মনে হয়। এই ভূখণ্ডের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে রয়েছে ইতিহাস আর সমৃদ্ধি। প্রিয় স্থাপত্য গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশে টিকে থাকা সাতটি মোঘল হাম্মামখানা।
ভ্রমণকারী হিসেবে আমি জনপ্রিয় কেউ নই এবং আমার কাজ সম্পর্কে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষই জানেন। তাই অল্প করে নিজের কাজ ব্যাখ্যা করি। আমি নিজেকে একজন ভ্রমণ অনুরাগী মনে করি এবং সেই সাথে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে রয়েছে আমার সখ্য। ভ্রমণ ও ইতিহাস কবে মিলেমিশে আমার মাঝে হেরিটেজ ট্রাভেল কিংবা ঐতিহ্য ভ্রমণের রূপ ধারণ করেছে সেটি আসলেই আমার জানা নেই। তবে ভ্রমণ, প্রত্নস্থল, যে কোন অঞ্চলের ইতিহাস অনুসন্ধান আমার মনজমিন ও দেহে এখন লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার মতই প্রবাহিত হয়। দেশপ্রীতি কিংবা অঞ্চলপ্রীতি থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশে আমার হেরিটেজ ট্যুরিজম বিকাশের কাজ যা আজও চলমান। হেরিটেজ ট্যুরিজমের পথে চলতে চলতে দেখা পাই আমাদের ভুখন্ডের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস।
সাতটি মোঘল হাম্মামখানা দেখবার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অল্প পরিসরে তুলে ধরা অসম্ভব নয় তবে কষ্টসাধ্য। কারণ এই পুরো বিষয়টি আলাদা করে মলাটবদ্ধ হবার দাবী রাখে। তারপরও সাতটি হাম্মামখানার সাথে আগ্রহীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।
গল্প শুরু করছি ঢাকার দুইটি হাম্মামখানাকে ঘিরে। গল্প শুরুর আগে, আমার মত যারা হাম্মামখানা সম্পর্কে কম জানেন তাদের জন্য এর ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে অল্প আলাপ করছি।
হাম্মামখানা আসলে কি?
হাম্মামখানা আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি শব্দ নয়। এটি একটি ফার্সি শব্দ যার অর্থ স্নানাগার।মুসলিম সভ্যতায় প্রথম স্নানাগার বা হাম্মাম নির্মিত হয় এশিয়া মাইনর অঞ্চলে। তুরস্ক এবং পারস্যে-এর চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। উমাইয়া যুগে নির্মিত ‘কুসায়ের আমরা প্রাসাদ’ সংলগ্ন হাম্মামটি মুসলিম সভ্যতার প্রথম স্নানাগার। এর নির্মাণকাল ৭১২-৭১৫ খ্রিস্টাব্দ।তুর্কিদের সংস্পর্শে এসে এই ধারণা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে যায় এবং সেখানে তা ‘তার্কিশ হাম্মাম’ নামে পরিচিতি পায়। মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য ও তুর্কি সংস্কৃতিতে হাম্মাম ছিল শুধু গোসলের স্থান নয়; এটি ছিল সামাজিক আড্ডা, বিশ্রাম ও পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।ভারতীয় উপমহাদেশে হাম্মাম সংস্কৃতি মূলত মোঘলদের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়। মোঘল সম্রাট ও অভিজাতদের প্রাসাদে উন্নত প্রযুক্তির হাম্মামখানা নির্মিত হতো। এসব হাম্মামে গরম ও ঠান্ডা পানির আলাদা ব্যবস্থা, বাষ্পঘর এবং মেঝের নিচে আগুন জ্বালিয়ে ঘর গরম করার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। অনেক সময় হাম্মামের দেয়াল ও মেঝে মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি করা হতো।
মধ্যযুগে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হাম্মামের যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে প্রকার ও আকারের ভিন্নতার পরিচয় মেলে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে বাদশাহ জাহাঙ্গির তাঁর হাম্মামখানায় দরবার বসাতেন। সে থেকেই বোঝা যাচ্ছে হাম্মামখানার আয়তন বা আকৃতি কিরকম সুবিশাল ছিল। হাম্মামের বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো ু কফি পান, বিশ্রাম, শৌচকার্য, নামাজ ইত্যাদি। উপমহাদেশে অধিকাংশ হাম্মামখানা আমির-ওমরাহ ও রাজ পরিবারের সসস্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হতো।

ঢাকার লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানা
ঢাকার লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানা

লালবাগ প্রাসাদদুর্গের অভ্যন্তরে

ঢাকার লালবাগ এলাকায় লালবাগ কেল্লা মূলত একটি জলদুর্গ যা নির্মান করা হয়েছিল ঢাকাকে সুরক্ষিত করবার জন্য। প্রাসাদদুর্গের অভ্যন্তরে দ্বিতল একটি ভবনের ভেতরেই রয়েছে হাম্মামখানাটি। দুর্গ তৈরির কাজ যে শাসক শুরু করেছিলেন, তিনি থাকতেন চাঁদনী বজরায়। বুড়িগঙ্গাপারের যে জায়গাটা বর্তমানে চাঁদনী ঘাট নামে পরিচিত, সেখানেই নোঙর করা থাকত এই নৌকা। দিনের বেলা এসে নির্মাণকাজ তদারক করতেন তিনি। এখানে অফিস করতেন। তাঁর গোসলের প্রয়োজন হতো, শৌচাগার ব্যবহারের দরকার পড়ত। সে কারণে প্রথমেই তিনি তৈরি করান গোসলখানা। মোঘলরা যাকে বলত হাম্মামখানা। হাম্মামখানায় গরম পানি ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
হাম্মামখানার সামনের দ্বিতল ভবনটা দেওয়ান-ই-আম বা দরবার হল। আমজনতার সঙ্গে বৈঠক হতো বলেই এমন নাম। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় থেকে লালবাগের কেল্লা হয়ে ওঠে ব্রিটিশ সেনানিবাস। পাকিস্থান আমলের এই স্থাপত্যের কিছু পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ১৫/২০ বছর হাম্মামখানাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

জিঞ্জিরা প্রাসাদের হাম্মামখানা, ঢাকা
জিঞ্জিরা প্রাসাদের হাম্মামখানা, ঢাকা

জিঞ্জিরা প্রাসাদের হাম্মামখানা

ঢাকার অদূরে জিঞ্জিরা প্রাসাদের হাম্মামখানাটির দুটি কক্ষই কেবল অবশিস্ট রয়েছে। একটিতে একজন বৃদ্ধা ভাড়া থাকেন। অন্য কক্ষটি কোন একটি পরিবারের রসুইঘর। সেখানে রান্না হচ্ছে। রসুইঘরের পাশেই ময়লা ফেলার স্থান।
হাম্মামখানার চত্বরে অনেকগুলো ছোট ছোট কক্ষ নতুন করে তৈরী হয়েছে। সবাই বলেছেন তারা ভাড়া থাকেন। মালিক অন্যস্থানে বসবাস করেন। জিঞ্জিরা প্রাসাদ বলতে কয়েকটি ভাঙ্গা দেয়াল রয়েছে আর অসংখ্য অলি অলিতে হরেক রকম আধুনিক ইটের আবাসন। প্রাসাদের সিংহ দুয়ারের কয়েক চিলতে ইট কেবল বিদ্যমান। স্থানীয়রা আপনাকে একটুকুও সাহায্য করবে না তথ্য দিতে কিংবা পুরোনো স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ দেখতে, উল্টো অসহযোগিতা করবে। নানা রকম প্রশ্ন করবে।
তবে হাম্মামখানাটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি হাম্মামখানা। দুটো কক্ষের পাশ দিয়ে উপরে উঠবার সিঁড়ি রয়েছে। ছাদে গেলে গম্বুজ গুলো দেখলে আর কক্ষ দুটোর ভেতরে সিলিং বরাবর আলোর সোর্সটি বলে দেয় এটি হাম্মামখানা। হাম্মামখানার কক্ষ দুটি আর কটি দেয়াল কতদিন টিকবে কে জানে।

যশোরের মির্জাপুরের হাম্মামখানা
যশোরের মির্জাপুরের হাম্মামখানা

মির্জানগর নবাব বাড়ির হাম্মামখানা

কপোতাক্ষ নদের দক্ষিণ তীরে মীর্জানগর গ্রাম। মির্জানগরের নবাববাড়ি এখন ধবংসস্তুপ। তবে টিকে রয়েছে হাম্মামখানাটি। মির্জানগরের হাম্মামখানাটি এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত হাম্মামখানা হিসেবে চিহ্নিত। চার গম্বুজবিশিষ্ট এই ইমারতটির রয়েছে চারটি খোলা কক্ষ ও একটি প্রবেশ পথ। কক্ষ গুলোর মধ্যে কোনটি হয়তো প্রসাধন কক্ষ, গোসল কক্ষ ও পোশাক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করা হতো। একটি কক্ষে ছোট জলাধার রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে এবং সংস্কার করে।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যাম নগরের ঈশ্বরীপুর হাম্মামখানা
সাতক্ষীরা জেলার শ্যাম নগরের ঈশ্বরীপুর হাম্মামখানা

ঈশ্বরীপুরের হাম্মামখানা

আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে সাতক্ষীরা জেলার, শ্যামনগর থানার ঈশ্বরীপুরের হাম্মামখানাটি।ঈশ্বরীপুর হাম্মামটি স্থানীয়ভাবে হাবসিখানা নামে পরিচিত। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ঈশ্বরীপুর হাম্মামখানাটির অবস্থান। মধ্যযুগে এ অঞ্চল সুন্দরবনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাম্মাম এর নির্মাণকাল সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যায় না। তবে, মুগল পর্বে অর্থাৎ সতেরো শতকের শুরুতেই এটি নির্মিত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। কারণ এর নির্মাণশৈলী ও অলংকরণে মোঘল ছাপ সুস্পষ্ট। তিন কক্ষবিশিষ্ট আয়তাকার এ হাম্মামখানার ছাদে গম্বুজ রয়েছে। তিন কক্ষের মধ্যে রয়েছে প্রাক স্নানকক্ষ, স্নানকক্ষ এবং জল সংরক্ষণাগার ও চুলিকক্ষ।

শ্যাম নগরের জাহাজঘাটা হাম্মাম খানা
শ্যাম নগরের জাহাজঘাটা হাম্মাম খানা

জাহাজঘাটা হাম্মামখানা

শ্যামনগর সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে। শ্যামনগরে জাহাজঘাটা নামক স্থানে যে হাম্মামখানাটি রয়েছে বাইরের অবয়ব দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে একটি হাম্মামখানা রয়েছে। কারন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এখানে সংস্কারকাজ করেছে এবং সংস্কারকাজ করতে গিয়ে আধুনিক ইট দিয়ে এমন ভাবে বাইরের ইমারতটি বানানো হয়েছে যা দেখতে সাধারণ একটি স্থাপনার মত মনে হয়। ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করলে হাম্মাখানার ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। বর্তমানে ৪টি কক্ষ টিকে আছে ভিতরের দিকে কক্ষটির ছাদ অর্ধনলাকার পদ্দতিতে নির্মিত এবং দুপাশে দুটি ছিদ্র। এই ইমারতটি দ্বিতল ছিল বলে শ্রী সতীশ চন্দ্র মিত্র তাঁর গ্রন্থ “ বৃহত্তর যশোহর- খুলনার ইতিহাস” এ উল্লেখ করেছেন। উপরে বাসগৃহ ও নীচে হাম্মামখানা। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে একতলা একটি হাম্মামখানা বলে উল্লেখ করেছে।

চাপাইনবাবগঞ্জের তাহখানা। এই ইমারতের ভেতরে রয়েছে হাম্মামখানা
চাপাইনবাবগঞ্জের তাহখানা। এই ইমারতের ভেতরে রয়েছে হাম্মামখানা

মোঘল তাহখানার অভ্যন্তরে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ছোট সোনা মসজিদের কাছাকাছি এই তাহখানার অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র সুলতান সুজা বাংলার সুবেদার থাকাকালে, তাঁর নিজের বসবাসের জন্য একটি হাম্মামখানা সহ একটি সুরম্য ইমারত নির্মান করেন। তাহখানা কমপ্লেক্সে রয়েছে মসজিদ, মাজার একাধিক সমাধিভূমি।

হরষপুরে দিওয়ান বাড়ির হাম্মামখানা
হরষপুরে দিওয়ান বাড়ির হাম্মামখানা

হরষপুর দেওয়ান বাড়ির হাম্মামখানা

ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার হরষপুরে, দিওয়ান পরিবারের প্রাসাদ, দুর্গ ও একটি হাম্মামখানা রয়েছে। চতুর্থ দিওয়ান নাসির মোহাম্মদ এই প্রাসাদদুর্গ নির্মান করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাম্মামখানাটি এখন বসবাস করবার জন্য ব্যবহার হচ্ছে। দেওয়ান বাড়ির বংশধররা সেটি ব্যবহার করছেন। বাইরের বড় প্রাচীর আর লোহার গেট দেখে বুঝবার কোন উপায় নেই ভেতরে হাম্নামখানা রয়েছে। ২০১৯ সালে দেওয়ান বাড়ির ভেতরে প্রবেশ কর‍তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পথের পাশে বাড়ির টয়লেটের জানালা দিয়ে একজন বয়স্ক মহিলার সাথে দেড় ঘন্টা কথা বলার পর উনি আমাকে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে বাড়ির সামনে একটি মাঠে বসে ছিলাম। তারপর উনি সেই ছোট্ট জানালা দিয়ে আবার আমাকে ডাকেন। আমি তাকে বোঝাতে সক্ষম হই যে, আমি কেবল হাম্নামখানাটি দেখবো ও ছবি তুলবো, আমার আর কোন অভিসন্ধি নেই। কারন সেই হাম্মামখানা দেখলেই আমার বাংলাদেশে ৭টি হাম্মামখানা দেখা সম্পন্ন হবে।

এই ৭টি হাম্নামখানার কথা জেনেছি ইতিহাসবিদ ও প্রত্নগবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বই পড়ে। ২০১৬ সাল থেকে একাধিকবার আমি হাম্মামখানা গুলো পরিভ্রমণ করি। সলঘর যে নামেই ডাকি না কেন। মোঘল এই স্থাপনা গোটা বাংলাদেশে টিকে রয়েছে ৭টি। ঢাকার লাল বাগ কেল্লার ভেতরে এই হাম্মাম খানাটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। ঢাকায় আরও ১টি হাম্মামখানা রয়েছে জিঞ্জিরা প্রাসাদ চত্বরে। সেটির অবস্থা দারুন নাজুক। ২০২১ সালে শেষবার দেখেছি। তিনটি কক্ষ টিকে আছে। একটি রসুইঘর বানানো হয়েছে, অন্যটি ময়লার ভাগাড়, আরও একটি কক্ষতে একজন বয়স্ক মহিলা বসবাস করছেন। লোকালয় পার হয়ে যেতে হয় হাম্নামখানাটি দেখতে। এলাকার লোকজন বাইরের অতিথি দেখলে খুব একটা সহায়তা করে না। কাউকে জিজ্ঞেস করলে পথ দেখিয়ে দিবে না। আগ থেকে খোঁজ খবর করে, স্থানীয় কাউকে সাথে নিয়ে সেখানে যাওয়া উত্তম। যশোর জেলার হাম্মামখানাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। এটি দেখেছি ২০১৯ সালে। সাতক্ষীরা জেলায় রয়েছে দুটি, সেই দুটোর সামনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বোর্ড ঝুলছে, কিন্তু তেমন কোন যত্ন নেই। সাতক্ষীরার জাহাজঘাটার হাম্মামখানাটি সংস্কার করা হয়েছে খুব বাজে ভাবে, একটি সাধারণ স্থাপনার মত করে, নতুন ইট ব্যবহার করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি বিশেষ ধরনের স্থাপনা ছিল। ভেতরের একটি কক্ষ, যেটি সংস্কার করা হয়নি সেটি দেখে বোঝা যায়, স্থাপনাটি হাম্মামখানা। সাতক্ষীরার দুটো দেখেছি ২০১৯ ও ২০২০ সালে। বর্তমান অবস্থা জানি না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাম্মামখানাটি এখন বসবাস করবার জন্য ব্যবহার হচ্ছে। দেওয়ান বাড়ির বংশধররা সেটি ব্যবহার করছেন। বাইরের বড় প্রাচীর আর লোহার গেট দেখে বুঝবার কোন উপায় নেই ভেতরে হাম্নামখানা রয়েছে। ২০১৯ সালে দেওয়ান বাড়ির ভেতরে প্রবেশ কর‍তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বাথরুমের জানালা দিয়ে একজন বয়স্ক মহিলার সাথে দেড় ঘন্টা কথা বলার পর উনি আমাকে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে বাড়ির সামনে একটি মাঠে বসে ছিলাম। তারপর উনি সেই ছোট্ট জানালা দিয়ে আবার আমাকে ডাকেন। আমি তাকে বোঝাতে সক্ষম হই যে, আমি কেবল হাম্নামখানাটি দেখবো ও ছবি তুলবো, আমার আর কোন অভিসন্ধি নেই। কারন সেই হাম্মামখানা দেখলেই আমার বাংলাদেশে ৭টি হাম্মামখানা দেখা সম্পন্ন হবে। এই গল্পটি ২০১৯ সালের। এরপর সেই হাম্মামখানাটির অবস্থা আমি জানি না। আর যাওয়া হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তাহখানার ভেতরে একটি হাম্মামখানা রয়েছে। শেষবার দেখেছি ২০২১ সালে। এই ৭টি হাম্নামখানার কথা জেনেছিলাম আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বই পড়ে। আজ ঢাকার লাল বাগ কেল্লার ভেতরে সংস্কার করা হাম্নামখানাটি দেখে বাকি ৬টির কথা মনে পরলো। ঢাকার হাম্মামখানাটি বেশ সুন্দর করে সংস্কার করা হয়েছে, সংস্কারে সহায়তা করেছে আমেরিকান এম্বেসি।
ঢাকার মোঘল স্নানাগার..!! হাম্মামখানা, স্নানাগার, গোসলঘর যে নামেই ডাকি না কেন। মোঘল এই স্থাপনা গোটা বাংলাদেশে টিকে রয়েছে ৭টি। ঢাকার লাল বাগ কেল্লার ভেতরে এই হাম্মাম খানাটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। ঢাকায় আরও ১টি হাম্মামখানা রয়েছে জিঞ্জিরা প্রাসাদ চত্বরে। সেটির অবস্থা দারুন নাজুক। ২০২১ সালে শেষবার দেখেছি। তিনটি কক্ষ টিকে আছে। একটি রসুইঘর বানানো হয়েছে, অন্যটি ময়লার ভাগাড়, আরও একটি কক্ষতে একজন বয়স্ক মহিলা বসবাস করছেন। লোকালয় পার হয়ে যেতে হয় হাম্নামখানাটি দেখতে। এলাকার লোকজন বাইরের অতিথি দেখলে খুব একটা সহায়তা করে না। কাউকে জিজ্ঞেস করলে পথ দেখিয়ে দিবে না। আগ থেকে খোঁজ খবর করে, স্থানীয় কাউকে সাথে নিয়ে সেখানে যাওয়া উত্তম। যশোর জেলার হাম্মামখানাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। এটি দেখেছি ২০১৯ সালে। সাতক্ষীরা জেলায় রয়েছে দুটি, সেই দুটোর সামনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বোর্ড ঝুলছে, কিন্তু তেমন কোন যত্ন নেই। সাতক্ষীরার জাহাজঘাটার হাম্মামখানাটি সংস্কার করা হয়েছে খুব বাজে ভাবে, একটি সাধারণ স্থাপনার মত করে, নতুন ইট ব্যবহার করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি বিশেষ ধরনের স্থাপনা ছিল। ভেতরের একটি কক্ষ, যেটি সংস্কার করা হয়নি সেটি দেখে বোঝা যায়, স্থাপনাটি হাম্মামখানা। সাতক্ষীরার দুটো দেখেছি ২০১৯ ও ২০২০ সালে। বর্তমান অবস্থা জানি না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাম্মামখানাটি এখন বসবাস করবার জন্য ব্যবহার হচ্ছে। দেওয়ান বাড়ির বংশধররা সেটি ব্যবহার করছেন। বাইরের বড় প্রাচীর আর লোহার গেট দেখে বুঝবার কোন উপায় নেই ভেতরে হাম্নামখানা রয়েছে। ২০১৯ সালে দেওয়ান বাড়ির ভেতরে প্রবেশ কর‍তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বাথরুমের জানালা দিয়ে একজন বয়স্ক মহিলার সাথে দেড় ঘন্টা কথা বলার পর উনি আমাকে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে বাড়ির সামনে একটি মাঠে বসে ছিলাম। তারপর উনি সেই ছোট্ট জানালা দিয়ে আবার আমাকে ডাকেন। আমি তাকে বোঝাতে সক্ষম হই যে, আমি কেবল হাম্নামখানাটি দেখবো ও ছবি তুলবো, আমার আর কোন অভিসন্ধি নেই। কারন সেই হাম্মামখানা দেখলেই আমার বাংলাদেশে ৭টি হাম্মামখানা দেখা সম্পন্ন হবে। এই গল্পটি ২০১৯ সালের। এরপর সেই হাম্মামখানাটির অবস্থা আমি জানি না। আর যাওয়া হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তাহখানার ভেতরে একটি হাম্মামখানা রয়েছে। শেষবার দেখেছি ২০২১ সালে। এই ৭টি হাম্নামখানার কথা জেনেছিলাম আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বই পড়ে। আজ ঢাকার লাল বাগ কেল্লার ভেতরে সংস্কার করা হাম্নামখানাটি দেখে বাকি ৬টির কথা মনে পরলো। ঢাকার হাম্মামখানাটি বেশ সুন্দর করে সংস্কার করা হয়েছে, সংস্কারে সহায়তা করেছে আমেরিকান এম্বেসি।

লেখক : ঐতিহ্য পর্যটক

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular