মজা করে তাঁকে বলা হয় ‘গ্র্যান্ডফাদার অব জোকস’। আগাগোড়াই মজার মানুষ আহসান হাবীব। রঙ্গ-ব্যঙ্গ, রস-রগড় নিয়েই তাঁর কারবার। দেশের কার্টুন বিষয়ক একমাত্র ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’-এর সম্পাদকও। পেশাদার কার্টুনিস্ট, জনপ্রিয় রম্য লেখক। নানা স্বাদের কয়েকটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। তরুণ শিল্পীদের কাছে তিনি ‘বস নাম্বার ওয়ান’। সাড়ে ৩ দিনের পত্রিকার পক্ষ থেকে আহসান হাবীব-এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শফিক হাসান
বাংলাদেশে কমিকসের যাত্রা শুরু হলো কখন, কীভাবে?
আহসান হাবীব : বাংলাদেশে কমিকস যাত্রা নানাভাবে হয়েছে। যদ্দূর মনে পড়ে স্বাধীনতার পর পর ‘বারবারেল্লা’ নামে একটি বিখ্যাত বিদেশি গল্প শাচৌ+রনবী মিলে বিচিত্রায় আঁকতেন, লিখতেন। সেটা ধারাবাহিকভাবে বের হতো। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা…নামে ঐতিহাসিক রঙিন কমিকস বের হতো। আঁকতেন সম্ভবত কাজী আবুল কাসেমের (প্রথম মুসলিম কার্টুনিস্ট) ছেলে। অনেক পরে আমি আঁকা শুরু করি। আমার কিছু কমিকস চরিত্র ‘পটলা ক্যাবলা’, ‘পল্টু-বিল্টু’, ‘বিজ্ঞানী বঙ্কু’ আঁকতে থাকি। এগুলো প্রথমে সূচীপত্র প্রকাশনী ছাপত; পরে অনেকে করেছে, এখনো করছে। এখন তো কমিকস একটা ইন্ডাস্ট্রি হয়ে গেছে। ঢাকা কমিকস, কার্টুন পিপল…গ্রাফিক বাংলা ছাড়াও অনেকে কমিকস করছে।
আপনি একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে গ্রাফিক নভেল পড়ান। শিক্ষার্থীরা কীভাবে গ্রহণ করেছে নতুন এই বিষয়কে?
আহসান হাবীব : আমার ধারণা সবাই আগ্রহের সঙ্গে এটা গ্রহণ করেছে। আমি পরীক্ষা না নিয়ে কমিকস বা গ্রাফিক নভেলের প্রজেক্ট দিই। সেখানে দেখতে পাই তারা চমৎকার সব কাজ করে। অন্যান্য কোর্সে তারা থ্রি-ডি অ্যানিমেশন নিয়ে ক্লাস করে। আমার কমিকস বা গ্রাফিক নভেল তাদের অ্যানিমেশনে স্টোরি বোর্ডের আমেজ তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রাফিক নভেল পড়ার—জানা ও বোঝার উপযোগিতা কী?
আহসান হাবীব : সারা পৃথিবীতে এখন গ্রাফিক নভেলের একটা রেনেসাঁ যুগ চলছে। ছেলেপেলেরা আজকাল বই পড়ে না। তাই বড় বড় বিখ্যাত সাহিত্যগুলোকে ‘গ্রাফিক নভেল’-এ নিয়ে আসা হচ্ছে। যাতে তারা আগ্রহ বোধ করে। যেমন ‘স্যাপিয়েন্স’ একটা বিখ্যাত বই। দুই খণ্ডে সেটার গ্রাফিক নভেল বের হয়েছে। যেটা বললাম, শিক্ষার্থীরা যারা অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য কমিকস বা গ্রাফিক নভেল স্টোরি বোর্ডের ধারণা দেয়।
স্বতন্ত্র প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কমিকস যাত্রা শুরু করেছে। শুধু কমিকসকে কেন্দ্র করে আরও প্রকাশনা কেন এগিয়ে আসতে পারছে না?
আহসান হাবীব : পারছে না কথাটা ঠিক না। কেউ চাইলেই শুরু করতে পারে। এখন বেশিরভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের একটা ‘কমিকস উইং’ আছে।
ওপার বাংলার ‘চাচা চৌধুরী’, ‘নন্টে ফন্টে’, ‘হাঁদা ভোঁদা’র মতো তুমুল জনপ্রিয় কোনো কমিকস চরিত্র আমাদের এখানে গড়ে উঠতে পারেনি কেন?
আহসান হাবীব : ওগুলো প্রথম দিককার কমিকস চরিত্র বলে সবার কাছে প্রিয়। আমাদের এখানে কমিকস আন্দোলনটা একটু দেরিতে শুরু হয়েছে। তারপরও শাহরিয়ার খানের অনেক চরিত্র বেশ জনপ্রিয়। মেহেদী হকের ঢাকা কমিকসের অনেক চরিত্র এখন জনপ্রিয়। নিজের কমিকস চরিত্রগুলো নিয়ে নিজের বলা ঠিক হবে না। হা হা হা।
একসময় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রচুর কমিকস ছাপা হতো। ধীরে ধীরে সেটা বিলুপ্তির খাতে চলে যাচ্ছে কেন!
আহসান হাবীব : কমিকস ছাপা হতো না। তিন প্যানেলের কমিকস স্ট্রিপ ছাপা হতো। টারজান, ন্যান্সি…বিদেশি কার্টুন/ কমিকস স্ট্রিপ এখনো ছাপা হয়। পত্রিকাওয়ালারা না চাইলে আর্টিস্টরা কেন আঁকবে? তবে ‘কার্টুন কিচেন’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান হয়েছে, ওখানে কার্টুন কমিকস বিষয়ক কিছু চাইলেই পাওয়া যাবে তৎক্ষণাৎ।
আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় কমিকস আর্টিস্ট কে বা কারা?
আহসান হাবীব : অনেকেই কাজ করছে। সবারই সম্ভাবনা প্রচুর। যে কমিকস আঁকা শুরু করবে তারই সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কমিকসের প্রতিবন্ধকতাগুলো কী—শিল্পীর জন্য, পত্রিকার সম্পাদক ও বইয়ের প্রকাশকদের জন্য?
আহসান হাবীব : প্রতিবন্ধকতা একটাই—গল্প। গল্পে আমরা একটু পিছিয়ে আছি। ড্রইংয়ে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। কিন্তু মৌলিক গল্পে একটু পিছিয়ে আছি। তবে এটা খুব শিগগিরই আমরা হয়তো অতিক্রম করতে পারব। পত্রিকার সম্পাদক বা প্রকাশকরা চাইলেই প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। মানে বলতে চাচ্ছি তারা চাইলেই কমিকস পেতে পারে আর্টিস্টদের কাছে। তবে অর্থনৈতিক বিষয়টা পরিষ্কার করতে হবে আগে।
বাংলাদেশে বর্তমানে কমিকসের বই কতটা জনপ্রিয়? ভবিষ্যৎ চিত্রটা কেমন হতে পারে?
আহসান হাবীব : বেশ জনপ্রিয়। এ বিষয়ে পরিষ্কার জানতে হলে মেহেদী হকের ইন্টারভিউ করতে হবে।
কমিকসের প্রচার ও বিকাশে দৈনিক পত্রিকার ফান ম্যাগাজিন ও রম্য আয়োজনের ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?
আহসান হাবীব : হ্যাঁ, ফান ম্যাগাজিনগুলো ভালো ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ফান সাপ্লিমেন্টগুলো তো একে একে নিভিছে দেউটি…।
প্রশ্নটা দুঃসাহসিকই, তবুও স্বপ্ন দেখতে চাই। বাংলাদেশের কমিকস ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে বহির্বিশ্বে পৌঁছাবে তো!
আহসান হাবীব : কেন নয়। কার্টুন পিপলের কমিকস তো ইংরেজিতেও বের হচ্ছে।
দেশে ও বিদেশে আপনার পছন্দের কমিকস চরিত্র কোনটি?
আহসান হাবীব : ‘কারেজ দ্যা কাওয়ার্ডলি ডগ’ আমার খুব প্রিয়।
সাদাকালো কাগজে আঁকাআঁকি, ছাপাছাপি থেকে রঙিন হয়ে ওঠা—কমিকসের এই যাত্রাপথ কেমন ছিল?
আহসান হাবীব : খুবই কঠিন। সেই যুগে আমাদের ট্রেসিং পেপারে স্টেডলার পেনে আঁকতে হতো। সাদা কাগজে আঁকলে প্রসেস করা অনেক ব্যয়বহুল ছিল। সাদা কাগজে আঁকতামই না। তারও আগে স্টেনসিল পেপারে এঁকেছি। ডায়ালগ প্রিন্ট করা হতো সেলোফিন পেপারে। তারপর সেটা স্কচটেপ দিয়ে ট্রেসিংয়ের ড্রইংয়ে বসানো হতো। রঙিন তো দিল্লি দূর অস্ত! সত্যিই কঠিন সময় গেছে আমাদের।
বর্তমানে কমিকস-কার্টুনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এটা ভালো দিক নাকি মন্দ?
আহসান হাবীব : অবশ্যই ভালো দিক।
কমিকস আর্টকে কি পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় এসেছে?
আহসান হাবীব : অনেক আগেই এসেছে। আমাদের অনেকেই নিয়েছে পেশা হিসেবে।
এআই কি কার্টুন শিল্পীর জন্য হুমকি হয়ে উঠছে? পেশাগত যৎকিঞ্চিৎ সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে?
আহসান হাবীব : হুমকি বলব না। কিঞ্চিৎ ঝামেলা হয়েছে বলা যায়।
বাংলা কমিকসকে প্রত্যাশিত কোন জায়গায় দেখতে চান?
আহসান হাবীব : সুপারম্যান, ব্যাটম্যান কমিকস থেকে অ্যানিমেশন মুভি হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমাদের বাংলা কমিকস থেকেও অ্যানিমেশন মুভি হবে।
কার্টুন শিল্পীর জন্য সেন্স অব হিউমার কতটা জরুরি?
আহসান হাবীব : ১০০% জরুরি।
কমিকস নিয়ে উন্মাদ অতীতে কী কী কাজ করেছে, ভবিষ্যতে কী করতে চাইছে?
আহসান হাবীব : আমরা অতীতে প্রচুর কাজ করেছি। এখনো করছি। আমাদের ম্যাগাজিন একটি ফিচার বেজ পত্রিকা। এর ফিচারগুলো সবই তো আদতে কমিকস ফরমেটে প্রকাশিত হয়।
আপনিও কয়েকটি গ্রাফিক নভেল লিখেছেন, এঁকেছেন। পাঠক প্রতিক্রিয়া কেমন পেয়েছেন?
আহসান হাবীব : ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি বলেই তো মনে হয়। প্রতিবছরই একটা গ্রাফিক নভেল করার চেষ্টা করি।
কমিকস হাতে নিলে একজন পাঠকের কী প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে?
আহসান হাবীব : আমরা যখন বই পড়ি, তখন মস্তিষ্কে একটা ছবি তৈরি হয়। কিন্তু কমিকসের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে ছবি তৈরি করতে হয় না। ছবি তো কমিকসের প্রতি প্যানেলেই আছে। এটাই হচ্ছে কমিকসের সুবিধা।
সাধারণ মানুষের বোঝার স্বার্থে আমরা কমিকস বলতে কী বুঝব! কমিকস কী?
আহসান হাবীব : কমিকস (পড়সরপং) আর কমিক (পড়সরপ) দুটো আলাদা শব্দ। কমিক অর্থ মজা করা টাইপ। কেউ হয়তো বেশ ফান করে; আমরা বলতে পারি—ও বেশ কমিক করে। যেমন জোকসের অনুষ্ঠানে যারা জোকস বলে হাসায় তারা হলো কমিক আর্টিস্ট। আর যারা কাগজে কলমে কমিকস আঁকে কারা কমিকস আর্টিস্ট।
পটলা ক্যাবলা, পল্টু বিল্টু, বিজ্ঞানী বঙ্কু বা উন্মাদের মোতাব্বিরের কাগু…আপনার সৃষ্ট কমিকস চরিত্রে কাকে এগিয়ে রাখবেন?
আহসান হাবীব : পটলা ক্যাবলা আমার ছেলেবেলার তৈরি করা চরিত্র, যখন অফিসিয়ালি কোথাও আঁকতাম না। শুধু নিজের জন্য আঁকতাম তখনকার চরিত্র। এর প্রতি একটু নস্টালজিয়া আছে। অন্যগুলো সরাসরি প্রফেশনালি আঁকা শুরু করি। প্রকাশকদের অনুরোধেও বলা যায়। তবে মোতাব্বিরের কাগু ‘উন্মাদ’-এর একটা নির্দিষ্ট চরিত্র। সবগুলোই আমার কাছে এগিয়ে আছে।
এক শ্রেণির মানুষ কমিকস, কার্টুনকে মূলধারার শিল্প মনে করে না। এ ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কী?
আহসান হাবীব : সব সময়ই এরকম ‘এক শ্রেণির মানুষ’ থাকে। এই এক শ্রেণির মানুষ এক সময় সায়েন্স ফিকশন বা রম্যকে সাহিত্য মনে করত না। তাতে কার কী যায় আসে।
টিআইবিসহ আরও কেউ কেউ এক সময় কার্টুন প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। এটা ঝিমিয়ে পড়ল কেন? এমন অবস্থায় উন্মাদের ভূমিকা কী হতে পারে?
আহসান হাবীব : ভুল প্রশ্ন। টিআইবি তো প্রতিবছর কার্টুন প্রতিযোগিতা করে (এখন কার্টুনের সঙ্গে কমিকসও যুক্ত হয়েছে)। অনেকে জানে না দুদকও এরকম দুনীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনী করে থাকে (আমি একবার বিচারক ছিলাম)। কদিন আগে কার্টুন পিপল করল শিল্পকলায় বেশ বড় আয়োজন, সেটা ছিল কানাডিয়ান অ্যাম্বেসির সহায়তায়। ‘উন্মাদ’ তো প্রতিবছর একটা কার্টুন প্রদর্শনী করেই। মেহেদী হকের স্টুডিওতে একবার কমিকস প্রদর্শনীও হয়ে গেছে। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে কার্টুন-কমিকস প্রদর্শনী অব্যাহত আছে। একটু খোঁজখবর রাখতে হবে এই আর কি।
দুর্নীতি বা অসাধুতা প্রতিরোধে কার্র্টুন-কমিকস কতটা শক্তিশালী অস্ত্র?
আহসান হাবীব : অবশ্যই এটা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা শক্তিশালী মাধ্যম। তবে তার প্রকাশটা হিউমারের মাধ্যমে। যে কারণে যার বিরুদ্ধে বলা হয় সে খোঁচাটা হজম করে রিয়েলাইজ করে। ভারতের এক প্রধানমন্ত্রী তাঁর রুমে তাঁকে নিয়ে প্রতিদিনের কার্টুন বোর্ডে লাগিয়ে রাখতেন। তিনি বলতেনও, ‘আমি এখান থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার শিক্ষা নিই।’
আপনি পেশায় কার্টুনিস্ট। সামাজিকভাবে এই পরিচয় আপনার জন্য কেমন?
আহসান হাবীব : এখনো হয়তো অনেকে মেনে নিতে পারে না যে, শুধু কার্টুন এঁকে জীবন চলতে পারে কি না। তবে এখন পারে। কার্টুনিস্টের জার্নি অনেক দীর্ঘ। সে শুধু কার্টুন আঁকে না; সে কার্টুন স্ট্রিপ আঁকে, সে কমিকস আঁকে, সে গ্রাফিক নভেল আঁকে। চাইলে সে অ্যানিমেটর হতে পারে। তবে বিয়ে করতে গেলে একটু সমস্যা হয় আর কি…হা হা হা। আমার যেমনটা হয়েছিল।
আপনি ‘কার্টুন’ ম্যাগাজিনেও কাজ করছেন। এই দীর্ঘ কার্টুনিস্ট জীবনে আপনার পারিবারিক জীবনে কি প্রভাব ফেলেছে?
আহসান হাবীব : কার্টুন ম্যাগাজিনের সম্পাদক হারুনুর রশীদ ছিল আমার বন্ধু মানুষ। তাঁর অনুরোধে কিছুদিন ‘কার্টুন’ ম্যাগাজিনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম নির্বাহী হিসেবে। পরে হারুন আমেরিকায় চলে গেল। পত্রিকাই বন্ধ হয়ে গেল। পারিবারিক জীবনে খারাপ প্রভাব কিছু পড়েনি। ভালো প্রভাবই পড়েছে। আমার স্ত্রী জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে মাইক্রোবায়োলজিস্ট। তারপরও সে মাঝে মধ্যে কার্টুন-কমিকস আঁকে। আমার থেকে ভালো আঁকে।
অনেক লেখক-শিল্পীর অভিযোগ তারা পারিশ্রমিক, সম্মানী বা রয়্যালটি ঠিকমতো পান না। এক ধরনের কারচুপি আছে এখানে। আপনার অভিজ্ঞতা বলবেন?
আহসান হাবীব : কারচুপি কোথায় নাই? এখানেইবা থাকবে না কেন? তবে এখনকার তরুণরা সচেতন। তারা ঠিকই তাদের প্রাপ্য আদায় করে নিতে পারে।
আপনি কার্টুনিস্ট আবার রম্য লেখকও। দুই সত্তা কি একটা আরেকটার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে?
আহসান হাবীব : হ্যাঁ। আমার ক্ষেত্রে সহায়ক।
আপনি নিজেকে দাবি করেন ‘গ্র্যান্ডফাদার অফ জোকস’ হিসেবে। এটা কি ‘গ্র্যান্ডফাদার অফ কার্টুন’ হতে পারত না?
আহসান হাবীব : এটা আমি দাবি করি না। কীভাবে কীভাবে যেন হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি যেবার ইংল্যান্ডে গেলাম গ্রাফিক নভেলের একটা ওয়ার্কশপে, সেখানে বিখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘ওয়াচম্যান’-এর আর্টিস্ট ডেভ গিবসনের সাথে দেখা হয়। তিনি হঠাৎ আমাকে বলেন, ‘ও, তুমি তো ড্যাড অফ বাংলাদেশ কার্টুন!’ শুনে আমি লজ্জায় পড়ে যাই। সেই-বা এটা ভাবল কীভাবে। যা হোক এত বিখ্যাত মানুষের মুখে এরকম বাক্য শুনতে ভালো তো লাগেই।
অনেক কার্টুনিস্টই হাত মকশো করেছেন ‘উন্মাদ’-এ। পরে আঁকাজোকায় ক্যারিয়ার গড়েছেন। এই কর্মিবাহিনীকে নিয়ে কিছু বলবেন?
আহসান হাবীব : হ্যাঁ, আমার ৪৮ বছরের কার্টুনিস্ট জীবনে এরাই তো আমার সেরা পুরস্কার। ওদের জন্য সত্যি আমার গর্ব হয়।
কার্টুনিস্ট হিসেবে আপনার একটা মধুর অভিজ্ঞতা ও একটা তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই।
আহসান হাবীব : একবার চট্টগ্রামে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম ছাত্রদের কার্টুন কীভাবে আঁকতে হয় শেখাতে। প্রায় ৩০০০ ছাত্রের সামনে ঘণ্টাব্যাপী আঁকা ও বক্তৃতা শেষ করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেউ কি কার্টুনিস্ট হতে চাও?’ ৩০০০ ছাত্র নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। পিনপতন নিস্তব্ধতা। হঠাৎ ক্লাস সেভেনের একটা বাচ্চা হাত তুলল! আহা, আবেগে আমার চোখে পানি চলে এল। পরে আরও দুটো বাচ্চা হাত তুলল। আমি স্টেজ থেকে নেমে এসে তাদের সঙ্গে হাত মেলালাম। অটোগ্রাফ দিলাম। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর আমার কার্টুনিস্ট জীবনে কী হতে পারে!
নাহ্, এই সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা বলার পর আর তিক্ত অভিজ্ঞতা বলতে চাই না। এত বড় একটা জার্নিতে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকবে না, তাই হয় নাকি?
কমিকসের পাঠক মূলত কারা?
আহসান হাবীব : টিনএজাররা। বাচ্চারা…অনেক বড় মানুষও কমিকস পড়েন।



