Homeইন্টারভিউকমিক ইন্ডাস্ট্রি বলতে যা বোঝায় তা এখানে ওই অর্থে গড়ে ওঠেনি

কমিক ইন্ডাস্ট্রি বলতে যা বোঝায় তা এখানে ওই অর্থে গড়ে ওঠেনি

শাহরিয়ার খান, একজন বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট এবং সাংবাদিক; জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘বেসিক আলী’র স্রষ্টা। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই কার্টুনটি শুরু থেকেই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘বেসিক আলী’ ছাড়াও শাহরিয়ার খান ‘বাবু’, ‘ষড়যন্ত্র’, ‘লাইলী’, ‘কিউব’ এবং ‘সোমো সিরিজ’-সহ আরও অনেক বই রচনা করেছেন। বেঙ্গলবুকস ও কিন্ডারবুকসের যৌথ প্রকাশনায় বেরিয়েছে তাঁর ‘অগ্নির অভিযান’ কমিক বইটি। সাড়ে ৩ দিনের পত্রিকার জন্য এই জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট ও কমিকস্রষ্টার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল আবেদিন

কমিক চর্চার আগ্রহটা কীভাবে এলো?

শাহরিয়ার খান : আমি ছোটবেলা থেকেই বুঝেছি যে আমি আসলে ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে শিখতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে লার্নিং সিস্টেম চার ধরনেরÑদেখা, শোনা, পড়া অথবা অনুভব করা। আমার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল অর্থাৎ দেখার ওপর ফোকাস করেই শেখার চর্চাটা বেশি ছিল। আমি যে ভিজ্যুয়াল লার্নিংয়ের মাধ্যমেই কিছু জেনারেট করতে পারি এটা ছোটবেলায় বুঝতাম না। এখন একটু একটু বুঝতে পারছি। পরিণত বয়সে বুঝলাম, আমার সহপাঠীদের সঙ্গে আমার কিছু পার্থক্য আছে। অন্যরা শব্দ শুনে কিছু শিখত। কিন্তু আমাকে সবসময় ভিজ্যুয়ালাইজ করতে হতো। এমন মানুষদের দেখবেন কনভেনশনাল লার্নিং প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। ছোটবেলা থেকেই আসলে আমার আগ্রহ ছিল ভিজ্যুয়ালে। পরে তো পেশাদারভাবেই আঁকা শুরু করলাম।

বাংলাদেশে কমিক সাহিত্য কি শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পেয়েছে? এ মুহূর্তে কমিকশিল্প নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ যদি বলতেন।

শাহরিয়ার খান : প্রশ্নটাই এমন যে একটু রূঢ় উত্তর দিতে হয়। কমিক ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেকেই বলেন। আস্তে ধীরে কমিক নিয়ে কাজ বাড়ছে। এটুকু সত্য। কিন্তু কমিক ইন্ডাস্ট্রি বলতে গোটা বিশ্বে যা বোঝার তা এখানে ওই অর্থে গড়ে ওঠেনি। এখানে কমিক ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছু খেটেখুটে খাওয়া শিল্পীকে বোঝায়। এরা নিজ চর্চার মাধ্যমে কমিক সাহিত্য লেখার চর্চাটা গড়ে তোলে। এখন একটা কমিক বানাতে যে পরিশ্রম হয় তার বিপরীতে উপযুক্ত পারিশ্রমিক কিংবা সম্মানী তো আর্টিস্টরা পান না। সঙ্গতই তাদের আর্ট থেকে মনোযোগ সরিয়ে জীবিকা নির্বাহের দিকে ঝুঁকতে হয়। এমন অনেক চ্যালেঞ্জ তো আছে। এখানে আমাদের পাঠাভ্যাসের একটা সম্পর্ক আছে। পাঠাভ্যাস, সাহিত্য লেখার চর্চার সংস্কৃতি আর শিল্পীদের অবস্থানÑএসব বিবেচনা করলে এখন বাংলাদেশে কমিক যেভাবে লেখা হয় সেটাকে আসলে আমরা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গ্লোরিফাই করতে পারি না। হয়তো এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়লে সামনে সুযোগ তৈরি হবে।

কমিক সাহিত্যের বিস্তারের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনটা?

শাহরিয়ার খান : ডিসি আর মারভেলের মতো কমিক তো সামনে আছেই। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই কমিক সাহিত্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রি। তবে কমিক সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাদের কিছু অ্যাপ্রোচ আছে। যদি আপনি খুবই ইউনিক কমিক সাহিত্যের খোঁজ করেন তাহলে এশিয়াতেই জনপ্রিয় কিছু ইন্ডাস্ট্রি আছে। যেমন জাপানে মাঙ্গা, চীনে ও কোরিয়ার মানহুয়া ইন্ডাস্ট্রি আছে। এগুলো শুধু যে প্রিন্ট ভার্সনে আসে এমন না। দেখবেন এগুলোর ওয়েবটুনও আছে। এখানকার যেমন অনলাইন লিটল ম্যাগাজিন আছে ওখানেও কমিক বা কার্টুন সিরিজের জন্য ডেডিকেটেড সাইট আছে। এখন কমিক মিডিয়ামটা আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে সেটা না বুঝলে তো এটার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে না। সচেতনতা মানে কমিক পড়েও যে আসলে অন্যভাবে পরিতৃপ্ত হওয়া যায়, এটা বোঝা যাবে না।

বাংলাদেশের কমিক ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে রূঢ় যে বাস্তব বলেছেন, সেটা থাকার পরও কিন্তু আপনি কমিক সাহিত্যকে চর্চার মাধ্যমে জনপ্রিয় করছেন। অর্থাৎ আপনি নিজেও আশাবাদী যে কমিক সাহিত্যের সম্ভাবনা আছে। এ সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়?

শাহরিয়ার খান : বাংলাদেশে এখন কমিক সাহিত্যের পরিসর অনেক ছোট। অল্প কিছু প্রকাশনী কমিক বই ছাপায়। কিছু প্রকাশনী কমিক শুধু ক্রিপ্ট আর অনুবাদ করে। সেক্ষেত্রে তারা ভিজ্যুয়ালটি যে ভালোভাবে এডিট করে প্রিন্ট রেডি করতে পারে তা না। এজন্য তো অনেক পরিশ্রম দরকার। সংবাদমাধ্যমগুলোর কয়েকটা কার্টুন ছাপায়। সেখানেও সমস্যা আছে। এখানে মার্কেটিং অনেক জরুরি। প্রজন্মের ভিত্তিতে পাঠক গড়ার কাজটি মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে করতে হয়। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে মার্কেটিং বিষয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে। তারা ধরেই নেয় যা কিছু মার্কেটিং করা হবে তার পেছনে বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্য আছে। এটা সত্য না। মানুষের কাছে কিছু উপস্থাপন করার একটা প্রক্রিয়াও এটা। এখন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। কারণ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ার মাধ্যমে তাদের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। যারা বড় হয়ে গেছে বা এক ধরনের রুচির অভ্যাসে রয়েছেন তাদের আসলে আবার নতুন করে পাঠাভ্যাস তৈরি করা কঠিন। সে চেষ্টাও থাকবে। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কাজ করতে হবে। এ কাজটা করার জন্য মার্কেটিং লাগে। পাঠকরা যেন জানতে পারে যে আসলে এ ধরনের কাজ আছে, সেজন্যই মার্কেটিং। প্রকাশনীগুলো তাদের কমিকের প্রচারণা ভালোভাবে করবে। আবার প্রকাশনী এখানে ভালো মার্কেটিং করলেও সামাজিক পর্যায়ের রুচির বিষয়টিও গড়ে তোলা যায়। আমাদের দেশের অভিভাবকরা যদি বুঝতেন যে ছেলেমেয়েদের হাতে স্মার্টফোন না দিয়ে কমিক বই বা ভালো বই দেয়া উচিত, তাহলে এত সমস্যা হতো না। স্মার্টফোন তো তরুণ প্রজন্মকে ডাম্ব বানিয়ে তুলছে। ওদের নিজস্বতা বলে আর কিছু নেই। বই আর কমিকস যখন বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের দিতেন তখন স্বাভাবিকভাবেই ডিমান্ড তৈরি হতো। আর যখন কোনো সাংস্কৃতিক পণ্যের চাহিদা থাকে তখন এর সাপ্লাইও নিশ্চিত হয়। আর্টিস্ট বলুন বা সাহিত্যিক বলুন, তিনি সরাসরি এ সাপ্লাই দেয়ার কাজটি শুরু করতে পারেন। লেখক বা আর্টিস্ট তাঁরাও মানুষ। বেঁচে থাকার তাগিদটা যদি তাঁদের শিল্পের প্রকাশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যেত, তাহলে আমাদেরটা এতদিনে প্রকৃত কমিক ইন্ডাস্ট্রি হতো। প্রাথমিকভাবে প্রকাশনীগুলোকে গুড মার্কেটিং করতে হবে। একই সাথে কমিকগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের কাজও করা লাগবে। এটা সহজ না। কিন্তু করতে হবে। এত কিছু বলার উদ্দেশ্য হলো, কমিকের চাহিদা থাকলে প্রকাশকরাই কিন্তু আর্টিস্ট খুঁজে খুঁজে বলবেন, তোমরা কমিক আঁকো। অর্থাৎ এখানে যেকোনো লিটারারি ইন্ডাস্ট্রি গড়ার জন্য ডিমান্ড-সাপ্লাই চেইন পোক্ত করা জরুরি। এ কাজটার বিষয়ে প্রকাশনীগুলোর উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু সামাজিক পর্যায়েও কমিকের গুরুত্বটা বুঝতে হবে। বাবা-মায়েদেরও বুঝতে হবে।

পাঠাভ্যাসের সম্পর্ক ঠিক কী রকম? বলা তো হচ্ছে এখন পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

শাহরিয়ার খান : এ রকম কথাও আসে সংবাদমাধ্যম বা অন্য স্থানে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দেশের মানুষ বই পড়তে আগ্রহী নন। বইয়ের অনেক ধরন আছে। একেকজন পাঠক তার রুচিবোধ অনুসারে পড়ার চেষ্টা করেন। এজন্য জনরা ভাগ করা হয়। আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে পড়ার অভ্যাসটা এত বেশি না। প্রয়োজন কিংবা বাস্তব চাহিদা না থাকলে কেউই আসলে পড়তে চান না। এখন ইন্ডাস্ট্রিকে যাচাই করতে হলে সাধারণ পাঠকদের বিবেচনা করতে গেলে সমস্যা হবে। আপনি যদি এই উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে পাঠাভ্যাসের তুলনা করেন তাহলে ভারতের মানুষ সবচেয়ে কম পড়ে। ওদের ওখানে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ামটা বেশ শক্তভাবে গড়ে উঠেছে। তারপরও ভারতে কিন্তু বইয়ের বিক্রি বেশি। আমাদের এখানে মুদ্রণশিল্পের অবস্থাই দেখুন। প্রতিবছর অনেক বই ছাপা হয়। কিন্তু কেমন বই? একাডেমিক বই। আমাদের এখানে বইয়ের চাহিদা যে কম এমন না। চাহিদা কম থাকলে তো নকল ফটোকপি বই থাকত না। কিন্তু পাঠাভ্যাসের একটা প্যাটার্ন এখানে আছে। এ প্যাটার্নটা সর্বোপরি ভালো না। এখন ভারতে আপনি দেখুন। মানসম্পন্ন বইয়ের বিক্রি বেশি। কারণ ওভাবে তারা চর্চা করছে। তারপরও কমিক সাহিত্য বলতে যা বোঝায়, সেটা ভারতে ওভাবে নেই। কিছু কিছু কাজ তো হয়েছে। সেগুলো সংবাদমাধ্যম, সাহিত্য সাময়িকী বা অন্য কোনো সাহিত্য মাধ্যমের কল্যাণে। একদম ডেডিকেটেড কমিক সাহিত্য সেভাবে ভারতেও নেই। আমাদের এখানেও ছিল না। তবে আস্তে আস্তে গড়ছে। যেমনটি বলেছি, এটা ইন্ডাস্ট্রির মতো গড়ে ওঠেনি। বরং এখানে কিছু মানুষ পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে এ জায়গাটাকে গড়ছেন।

সামাজিক স্তরে কমিককে খুব ভালো চোখে না দেখাও এর একটা কারণ না?

শাহরিয়ার খান : সেটা ঠিক। এখন সেটা শুধু কমিকের ক্ষেত্রেই সত্য এমন তো না। এখানে আমরা একটা জিনিস বুঝতে পারি না। যে দেশে ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন বেশি হবে, সে দেশে উদ্ভাবনও বেশি হবে। ভিজ্যুয়াল যখন আসে তখন সেটাকে কল্পনা করতে হয়। কল্পনায় বাস্তবকে মূর্ত-বিমূর্ত রূপ দেয়ার কাজটি করা সহজ না। এখন আমরা কি উদ্ভাবনী এক সমাজ? বাস্তব সত্য হলো, আমাদের সমাজটা উদ্ভাবনী না মোটেও। এখানকার মানুষ আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়ালাইজ করে এমন না। এখন ইন্টারনেট থাকায় অনেকে ভিজ্যুয়াল সম্পর্কে জানে। কিন্তু যখন আপনি ক্রিয়েটিভ হবেন, তখন তো ভিজ্যুয়াল জেনারেট করতে হবে। এটা তরুণ প্রজন্ম কতটা পারে? ভিজ্যুয়াল জেনারেট করার জন্য ভালোভাবে কল্পনা করতে হবে। এখন কল্পনাশক্তি আপনার কতটা ভালো সেটা বুঝতে হলে আপনাকে বই পড়তে হবে। উদাহরণ দেই। ধরুন আপনি নিজে যুদ্ধ দেখেন নাই। মানে সশরীরে দেখেননি। তাই বলে কি যুদ্ধ কেমন আপনি কল্পনা করতে পারবেন না? আপনি একটা ভালো বই পড়ুন। বর্ণনাটা ইন ডিটেইল দেখুন। অথবা কোনো ভিজ্যুয়াল থেকে আইডিয়া নিন। তারপর কি যুদ্ধের একটা দৃশ্য জেনারেট করা যাবে না? বাস্তব জগত থেকেই আসলে ভিজ্যুয়ালটা নিয়ে তা উপস্থাপন করতে হবে। এখন আমরা যখন কমিকস বা কার্টুন আঁকি তখন কিন্তু আমাদের সামনে বেশি রেফারেন্স থাকে না। এসব রেফারেন্স থাকে না। সেটা কিন্তু আমাদের ভিজ্যুয়ালাইজ করতে হয়। একজন ভালো কমিক আর্টিস্ট ভিজ্যুয়ালাইজ করার ক্ষমতা রাখেন। এটাতে তিনি স্বস্তি পান এবং সেভাবেই তা উপস্থাপন করেন। এ চর্চাটার মূল্যায়ন হয় যখন পাঠকও পড়তে শুরু করবে। এটা এক ধরনের পরোক্ষ তৃপ্তিও।

আমাদের দেশে কমিক সাহিত্যের পরিচর্যায় প্রকাশনীগুলোর অবদানকে কীভাবে দেখবেন? কমিকের ভিজ্যুয়ালের জন্য ভালো প্রযুক্তি ও সফটওয়ার সুবিধাও কিন্তু প্রয়োজন। সেটা এখানে নেই।

শাহরিয়ার খান : এটার উত্তরের জন্য আপনাকে পাবলিকেশন্স ইকোনমি বুঝতে হবে। আমাদের দেশে প্রকাশনীগুলো গাইড বই, নোটবই বা একাডেমিক বই না ছাপালে টাকা আয় করতে পারে না। তাদের সব মনোযোগ তাই এসব বইয়েই থাকে। শিক্ষার্থীরা এসব বই কিনতে বাধ্য। তাই এসব বইয়ের বিক্রি অনেক বেশি হয়। এটা তো কিছু করার নেই। কিন্তু গল্পের বই তো অপশনাল। সেখানে কমিককে তো আরও অপশনাল ভাবা হয়। অনেক সময় অভিভাবকরা এ ভিজ্যুয়াল মিডিয়ামকেই ভয় পায়। তাদের মনে হয় কমিক পড়লে বাচ্চাদের মাথা নষ্ট হবে। এ ভ্রান্ত ধারণা তো দূর হয়নি। অভিভাবকরা কোনোভাবেই গল্পের বই উপহার দেয়ায় আগ্রহী না। তারা অবশ্য বাচ্চাদের কী উপহার দেবেন সে বিষয়ে অধিকাংশ সময় বিভ্রান্ত থাকেন। এখন প্রকাশনীর কাছে যদি রেভেনিউ জেনারেট হয় তাহলে সে কমিক লেখার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভালো সফটওয়ার কিনে আনতে পারবেন। তিনি আর্টিস্টকেও ভালো সম্মানী দিয়ে ভালো একটি কমিক আনার চেষ্টা করবেন। এগুলো তো আছেই। সাংস্কৃতিক পরিসরে তাই চর্চাটা গড়তে হবে। ক্রিয়েটিভ মিডিয়ামকে অপশনাল বা বিনোদন হিসেবে ভাবার প্রবণতা দূর না হলে কমিক সাহিত্যও ঐভাবে গড়বে না। জাপানের কথা তো শুরুতে বলেছি। ওখানে একজন প্রকাশক শুধু টাইটেল বিক্রি করে যে পরিমাণ অর্থ আয় করেন সেটা বোধ হয় আমাদের দেশের সব প্রকাশনীর সারা বছরের আয়ের চেয়েও বেশি। ওখানে এ পাঠাভ্যাস চর্চাটা গড়েছে। তাই এটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমাদের এখানে টেকনোলজির অ্যাডপশন হয়নি। পাবলিকেশন্সকে ইকোনমির ভেতরে আমরা ফেলি না কারণ, এখানে আমরা কোনোভাবেই বিষয়টিকে অপশনাল থেকে নিডে রূপ দিতে পারছি না। বিষয়টা হতাশার তো বটেই। তাও এ ক্ষেত্রে কিছু মানুষ তো খেটেখুটে কাজ করছে। এটা একটা আশার বিষয়।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular